সিডনীতে একুশে বইমেলা ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপিত

সিডনীতে একুশে বইমেলা ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপিত

স্বদেশ বার্তা ডেস্ক রিপোর্ট | 25 Feb 2020

বৈরী আবহাওয়ার সম্ভবনা থাকলেও ২৩শে ফেব্রুয়ারির দিনটি শুরু হয়েছিলো আলোকের উজ্জ্বলতা দিয়ে। সারাদনি ব্যাপী নানা অনুষ্ঠান ও কর্মতৎপরতায় এ দিনটিতে একুশে একাডেমি অস্ট্রেলিয়া উদযাপন করলো ২২তম একুশে বইমেলা ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।

'একুশ' বাঙালী চেতনার কেন্দ্রবিন্দু, 'একুশ' আমাদের স্পর্ধিত সাহস। স্বদেশের সীমানা পেরিয়ে আমাদের অহ্মের শহীদ মিনার স্থান পেয়েছে সিডনীর কঠিন মৃত্তিকায়। ঘন সবুজে নিমজ্জিত এ্যাশফিল্ড পার্কের শহীদ মিনারকে ঘিরেই একুশে একাডেমি অস্ট্রেলিয়া এবারো অয়োজন করেছে একুশের বইমেলা ২০২০।

একুশে একাডেমী অস্ট্রেলিয়ার আয়োজতি একুশের প্রভাতফেরী শুরু হয় সকাল ৯টা ২২ মনিটি। এ সংগঠনের সকল সদস্য, শিশুকিশোরসহ এ আবেগময় প্রভাতফেরীতে অংশগ্রহণ করে সিডনির প্রায় ২৩ টি সংঠনের নেতা কর্মী ও সর্বসাধারণ, প্রায় ৪০০ মানুষরে এই প্রভাতফেরি এখন সিডনির প্রাণের আয়োজন। এসময় সিডনীর বিভিন্ন  মিডিয়ার প্রতিনিধিরাও  উপস্থিত ছিলেন।

‘আমার ভাইয়ে রক্তে রাঙানো’ গানটি উচ্চারিত হওয়ার সাথে সাথেই যেন সবাই জেগে ওঠে নব উদ্দীপনায়। চারপাশের পরিবেশ হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত। প্রভাতফেরী সমাপনের পর শুরু হয় সিডনির প্রখ্যাত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানমালা। সকালের শিশুদের পরিবেশনায় ক্রমান্বয়ে সঙ্গীত ও নৃত্য পরিবেশন করা হয়।

শিশুদের সকল পরিবেশনাই ছিলো সত্যিই হৃদয়স্পর্শী। বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা ও অস্ট্রলেয়িার জাতীয় পতাকা উত্তোলন করনে উত্তোলন করেন যৌথভাবে অস্ট্রেলিয়ায় নিযুক্ত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের কনসাল  জেনারেল খন্দকার মাসুদুল আলম ও সংগঠনরে সভাপতি ডঃ স্বপন পাল।  অনুষ্ঠানে আলোচনা সভায় সন্মানিত বক্তাদের আলোচনার মাঝ দিয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার দিবসের গুরুত্ব, কর্মতৎপরতা এবং অনাগত সময়ে কি কি পদক্ষপে  গ্রহণ করা উচিত সে বিষয়গুলো ফুটে ওঠে।  অস্ট্রেলিয়ায় নিযুক্ত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের কনসাল জেনারেল খন্দকার মাসুদুল আলম, যাঁরা একুশে একাডেমীর পক্ষে রক্তদান করেন তাদেরকে ফুল দিয়ে সন্মান প্রদান করেন এবং অভিনন্দন জানান। এবারের মেলার মূল সহযোগতিাকারী “প্রভাত ফরেী’র সম্পাদিকা জনাবা শ্রাবন্তী কাজী সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখনে ও ভবিষ্যতে আরো সহযোগতিার প্রতিজ্ঞা করেন। 

এ বছর একুশের মঞ্চে সিডনীস্থ ১০ জন কবি-সাহত্যিকের গ্রন্থের মোড়ক উম্মোচন হয়। সকলকেই লেখকদের অভিনন্দন  জ্ঞাপন করেন এবং বইয়ের প্রসার কামনা করেন। একুশে একাডেমীর নিজস্ব শিল্পীদের পরিবেশনায় গান ও আবৃত্তি ছিলো চমৎকার। শিশুদের চিত্রাঙ্গন প্রতিযোগীতার পর্বটি পরিচালনা করেন পটুয়া ও লেখক আশীষ বাবলু। তিনি বিজয়ী শিশুদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।  এবারের বইমেলায় দর্শকের উপস্থিতি ছিলো আশাতীত। উপচে পড়া মানুষের ভীড়ে এ্যাশফিল্ড পার্ক হয়ে উঠেছিলো বাংলার পরিচিত আঙিনা। যেন পরিচিত একুশ মেলার প্রবাসী রূপ। আগামী বছরের একুশে বইমেলার তারিখ ঘোষনা করা হয়, আর সেটি হচ্ছে ২১শে ফেব্রুয়ারী রবিবার ২০২১ (২১/০২/২১), এ্যাশফিল্ড পাক।