দ্বিতীয় মেয়াদে দেশের একুশতম রাষ্ট্রপতি পদে দায়িত্ব পালনের জন্য শপথ নিয়েছেন দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ। যিনি আগামী ৫ বছর এ পদে দায়িত্ব পালন করবেন। কিশোরগঞ্জের প্রত্যন্ত ভাটি অঞ্চলের মিঠামইনে জন্ম নেয়া বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদের রয়েছে বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের ইতিহাস। ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল প্রথমবার রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে তিনি জাতীয় সংসদে স্পীকারের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তিনি ৭ বারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘ ৫০ বছরের রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী মোঃ আবদুল হামিদ ৭৪ বছর বয়সে দ্বিতীয়বারের মতো রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করলেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টা ৪৩ মিনিটে বঙ্গভবনের দরবার হলে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব পালনের জন্য শপথ গ্রহণ করেন। জাতীয় সংসদের স্পীকার শিরীন শারমিন চৌধুরী রাষ্ট্রপতিকে শপথবাক্য পাঠ করান। এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদকে নিয়ে দরবার হলে প্রবেশ করেন। শপথ নেয়ার পর মোঃ আবদুল হামিদ এখন রাষ্ট্রপতি পদে সপ্তদশ ব্যক্তি হিসেবে ২১তম রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। সংবিধান অনুযায়ী আগামী ৫ বছর তিনি দায়িত্ব পালন করবেন। তিনিই দেশের একমাত্র ব্যক্তি যিনি দ্বিতীয় মেয়াদে এই দায়িত্ব পালন করছেন। সংবিধান অনুযায়ী সর্বোচ্চ দুই বার রাষ্ট্রপতি পদে থাকার সুযোগ থাকায় এটাই হবে তাঁর শেষ মেয়াদ। ২০১৩ সালে জিল্লুর রহমান ইন্তেকাল করলে মোঃ আবদুল হামিদ কিছুদিন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ছিলেন। পরে মোঃ আবদুল হামিদ নির্বাচিত হন। রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ১৯৪৪ সালের ১ জানুয়ারি কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার কামালপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫৯ সালে ছাত্রলীগে যোগ দেয়ার মধ্য দিয়ে তার রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়। ১৯৬১ সালে কলেজের ছাত্র থাকা অবস্থাতেই তিনি যোগ দেন আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনে। এক পর্যায়ে তাকে কারাগারেও যেতে হয়। প্রথমবার ১৯৭০ সালের নির্বাচনে ময়মনসিংহ-১৮ আসন থেকে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সর্বকনিষ্ঠ সদস্য হিসাবে নির্বাচিত হন। দ্বিতীয় দফায় ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ দেশের প্রথম সাধারণ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-৫ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত তিনি। ১৯৮৬ সালের তৃতীয় সংসদ, ১৯৯১ সালের পঞ্চম সংসদ, ১৯৯৬ সালের সপ্তম সংসদ, ২০০১ সালের অষ্টম সংসদ এবং সর্বশেষ ২০০৮ সালের নির্বাচনেও তিনি সাংসদ নির্বাচিত হন। ব্যক্তি হিসেবে অত্যন্ত অমায়িক, বচনে রসাসিক্ত, রাজনীতিতে বর্ষীয়ান, অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞায় পূর্ণ ব্যক্তিত্ব রাষ্ট্রপতি মোঃ আব্দুল হামিদ দেশের মানুষের মনের মণিকোঠায় স্থান করে নিতে সক্ষম হয়েছেন। আমরা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের একুশতম মহামান্য রাষ্ট্রপতির কর্মকাল সাফল্য, সুষমময় ও কুসমাস্তীর্ণ হোক এবং তাঁর সময়কালে দেশের অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জিত হোক, রাষ্ট্রের কর্ণধার হিসেবে তিনি হোন সকলের প্রত্যাশার প্রতীক দ্বিতীয় মেয়াদের প্রারম্ভে তাই তাঁকে জানাই প্রাণঢালা অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।